সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ , ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুরমা নদী ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের দাবি ধীরে চলছে চারলেন প্রকল্পের কাজ ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর আটক জন্মজয়ন্তীতে কবি নজরুল ইসলামকে স্মরণ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালি গাছের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত, অটোরিকশার চাপায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর পুশইনে মরিয়া বিএসএফ, সীমান্তে উত্তেজনা মে মাসে গণপিটুনি ও সহিংসতায় নিহত ৩১, ধর্ষণের শিকার ৮৩ নারী ও শিশু বাদাম চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও ফলন নিয়ে শঙ্কা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে ছাড় দেওয়া হবে না ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়ম, ক্ষোভে ফুঁসছেন বঞ্চিতরা টাঙ্গুয়ার হাওরে নিভে গেল ছোট্ট সৌম্যতার জীবনপ্রদীপ তাহিরপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় এমপি কামরুল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ”

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সংকট দূর করুন

  • আপলোড সময় : ২৬-০৬-২০২৫ ০১:৪৫:০৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৬-০৬-২০২৫ ০১:৪৫:০৯ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সংকট দূর করুন
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা এখন দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার এক কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। হাসপাতাল নেই, পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, নেই প্রয়োজনীয় একাডেমিক ও ক্লিনিক্যাল সুযোগ-সুবিধাও। ফলে একদিকে যেমন পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে জাতীয় স¤পদে রূপান্তরিত হওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসা শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে হয়ে উঠতে পারেন এক ভয়াবহ দক্ষতা-সংকটের শিকার - যা দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্যও হুমকি। সরকারিভাবে অনুমোদিত হলেও কলেজটি এখনও পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল ছাড়াই চলছে। ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করা এই মেডিকেল কলেজ ২০২৩ সালে স্থায়ী ক্যা¤পাসে ফিরলেও সেখানে হাসপাতাল চালু হয়নি। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে জেলা সদর হাসপাতালে সাময়িক ক্লিনিক্যাল ক্লাসের সুযোগ পেলেও, সেটি ‘টিচিং হাসপাতাল’ নয়। এর ফলে হাতে-কলমে শিক্ষায় তারা মারাত্মকভাবে পিছিয়ে পড়ছে। আরও ভয়াবহ চিত্র হলো- কলেজে ১১ জন প্রফেসরের পদ থাকলেও মাত্র ২ জন কর্মরত, এসোসিয়েট ও সহকারী প্রফেসরদের অধিকাংশ পদ শূন্য, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ যেমন শিশু ও চর্মরোগে কোনো শিক্ষকই নেই। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, লাইব্রেরিয়ান, একাউন্টেন্ট থেকে শুরু করে অফিস সহায়ক পর্যন্ত বেশিরভাগ পদই খালি। এটি শুধু একটি কলেজ নয় - এটি যেন চিকিৎসা শিক্ষার নামে একটি প্রহসন! এ পরিস্থিতিতে ১৮ জুন কলেজ কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক সংকট দূরীকরণের দাবি জানিয়েছে, এবং জুলাই মাসে হাসপাতাল চালুর বিষয়ে কমিটির বৈঠক বসার কথা রয়েছে। কিন্তু কেবল আশ্বাসে আর সভার প্রতিশ্রুতিতে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হয় না। বাস্তব পরিবর্তন দরকার। আমরা মনে করি, এটি শুধু সুনামগঞ্জ নয়, গোটা দেশের চিকিৎসা শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যতের প্রশ্ন। একটি মেডিকেল কলেজে যদি পাঁচ বছর পরেও হাসপাতাল না থাকে, শিক্ষক সংকট চরমে পৌঁছে - তবে সে শিক্ষার্থীরা কীভাবে দক্ষ চিকিৎসক হবে? কীভাবে জনগণকে সেবা দেবে? অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ, পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল চালু এবং মেডিকেল শিক্ষার মান নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নয়তো ‘ডিগ্রিধারী অথচ দক্ষতাহীন’ চিকিৎসকদের এক অদক্ষ প্রজন্ম তৈরি হবে, যার মূল্য বহন করতে হবে গোটা জাতিকে। সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের সংকট শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয় - এটি দেশের স্বাস্থ্যখাতের ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি। সময় থাকতে পদক্ষেপ না নিলে, ভবিষ্যতে এর দায় এড়ানো যাবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স